সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

সুস্থ হয়ে উঠছে সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটি

সুস্থ হয়ে উঠছে সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটি
বাঘ

সুন্দরবনে হরিণ শিকারের জন্য পেতে রাখা ফাঁদে আটকে পড়ার দুই দিন পর উদ্ধার হওয়া বাঘটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। খুলনার রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসাধীন বাঘটি এখন পানি ও খাবার গ্রহণ করছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণে ফিরছে এবং বন্য স্বভাবও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ক্ষত থাকলেও হাড় ভাঙেনি, যা আশাব্যঞ্জক। ক্ষত শুকালে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা যাবে।

বুধবার খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে আহত বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। শুরুতে বাঘটি খুবই দুর্বল থাকলেও চিকিৎসা দেওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে পানি ও খাবার গ্রহণ শুরু করেছে। তার মধ্যে ফের বন্য ক্ষীপ্রতা দেখা দিচ্ছে। তবে এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বাঘটি। বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মঙ্গলবার রাতে খুলনায় পৌঁছে বাঘটিকে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

বুধবার সকালে তারা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে জানান, ফাঁদে আটকে থাকার ফলে বাঘটির সামনের বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চলনভঙ্গি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হাড় ভাঙেনি—যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষজ্ঞ দল আশা প্রকাশ করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাঘটিকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এখনো ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই সময়ে মানুষের সমাগম হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ বন্য প্রাণী এবং আগে কখনো মানুষের সংস্পর্শে আসেনি, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

চিকিৎসক দলের অন্য সদস্যরা হলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর গোলাম হায়দার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার গোলাম আযম চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ঢাকার অতিরিক্ত ভেটেরিনারি অফিসার নাজমুল হুদা।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে জানা যায়, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনির শরকির খালসংলগ্ন এলাকায় একটি বাঘ হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়েছে। খবর পেয়ে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলটি ৪ জানুয়ারি দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে অচেতন করে ফাঁদ মুক্ত করে। এরপর রাতেই তাকে খুলনার রেসকিউ সেন্টারে এনে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়