সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বকাপে না যাওয়ায় ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নে ধাক্কা আসতে পারে

বিশ্বকাপে না যাওয়ায় ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নে ধাক্কা আসতে পারে

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে তাদের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থান ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) খেলাধুলার রাজনীতিকরণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। বাংলাদেশ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তির মব হত্যার ঘটনার পর গত এক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি ঘটে। কলকাতা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই তারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এদিকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজই (১ ফেব্রুয়ারি) আসতে পারে।

যদিও আইসিসি দাবি করছে, বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে বিসিসিআই ম্যাচ স্থানান্তরের অনুমতি না দিতে আইসিসির ওপর প্রভাব খাটিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দাবি, অতীতেও আইসিসি বিসিসিআইয়ের পক্ষে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইসিসিতে ভারতের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশটির সরকারের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন এবং তার বাবা অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা আগে জিওস্টারের স্পোর্টস ও লাইভ এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রধান নির্বাহী ছিলেন- যে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সব আইসিসি ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী।

এই বিতর্কটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারত সম্প্রতি ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আহমেদাবাদে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিড দিচ্ছে। এই দৌড়ে কাতারকে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইওসির অবস্থান আইসিসির তুলনায় অনেক কঠোর। দ্য গার্ডিয়ান-কে আইওসি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি অন্য দেশগুলোর বয়কটের আশঙ্কা থাকে, তবে ভারতের হাতে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে। পাশাপাশি রুল ৫০.২ অনুযায়ী অলিম্পিকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আইওসির ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির উদাহরণ দেখা যায় গত অক্টোবরে, যখন জাকার্তায় ওয়ার্ল্ড আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন সংক্রান্ত সব আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে ছিল, কিন্তু শুরুতেই ছিটকে যায়।

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ফিরছে এবং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকের সূচিতেও ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ক্রিকেটকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করা ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করার আইওসির কৌশল হলেও, তারা যেকোনো মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে রাজি নয়।

আইওসি সূত্র আরও জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: