ইরানে হামলা না হলে আরও শক্তিশালী হবে তেহরান - ওয়াশিংটনে মার্কিন নেতৃত্বকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্র
যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ইরানে সামরিক হামলার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। ওয়াশিংটনে মার্কিন শীর্ষ মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক দীর্ঘ বৈঠকে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে তেহরান সরকার আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওস শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ।
এর পরদিন শুক্রবার ওয়াশিংটনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ১৫ জন বিশ্লেষক ও পাঁচটি ইহুদি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন প্রিন্স খালিদ। সেখানে তিনি বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন, সেই হুমকি বাস্তবে রূপ না পেলে তা ইরান সরকারের জন্য উল্টো শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, এই মুহূর্তে হামলা না হলে তেহরান আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরব প্রকাশ্যে বরাবরই ইরানে হামলার বিরোধিতা করে আসছিল। এমনকি তিন সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেও ট্রাম্পকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তখন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই এবং রাজপরিবারে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এক্সিওসের দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের বিভিন্ন বৈঠকে তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি কার্যত মার্কিন অবস্থানকে সমর্থন করে এসেছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন যেহেতু ইরান প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে, তাই সৌদি আরব আর প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে চাইছে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতেই এই অবস্থান পরিবর্তন বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: এক্সিওস





































