উপসাগরে মার্কিন সামরিক জড়ো হওয়া নিয়ে হুঁশিয়ারি তেহরানের, ‘যুদ্ধ চাপালে নিরাপত্তাই বিপন্ন হবে’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি শুধু আক্রমণকারীদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেওয়া এক বক্তব্যে হাতামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিতে রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও নৌবহর মোতায়েনের পরই এ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুপক্ষ যদি ভুল হিসাব করে হামলার পথে এগোয়, তাহলে তারা নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ইসরাইলের অস্তিত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনোভাবেই নির্মূল করা সম্ভব নয়।
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন—তেহরান সম্ভবত সামরিক সংঘাতে না গিয়ে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথে হাঁটতে চাইবে। তবে ইরানের অবস্থান এ বিষয়ে কঠোর। এর আগেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আলোচনার বাইরে থাকবে।
এদিকে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি নৌ-স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, কোনো হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে, যার মধ্যে ইসরাইলও থাকবে। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওই সময় ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হন।
শনিবারের বক্তব্যে হাতামি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি কোনো ব্যক্তিনির্ভর বিষয় নয়। বিজ্ঞানী কিংবা সন্তানরা শহীদ হলেও এই সক্ষমতা ধ্বংস করা যাবে না।
সূত্র: ডন





































