তারেক রহমানের অঙ্গীকার: তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবে উত্তরবঙ্গের অগ্রাধিকার
রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আয়োজিত বিশাল জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচিত হলে রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের কৃষি ও পানির সমস্যা সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমাদের অগ্রাধিকার। এটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।”
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, “রংপুরের এই পবিত্র মাটি শহীদদের রক্তে সিক্ত। তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের স্বপ্নের ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তারেক রহমান রংপুরকে একটি অমিত সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনেকে রংপুরকে গরিব বললেও সঠিক নেতৃত্ব পেলে এটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিলে নির্বাচনের পরপরই কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হবে। বিনা মূল্যে বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ এবং প্রত্যেক কৃষকের হাতে ‘কৃষি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, রংপুরে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পায়ন এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়া হবে, যাতে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পীরগঞ্জসহ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন।
নারীদের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “এটির মাধ্যমে প্রতিটি গৃহিণী পরিবারে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে পারবেন এবং সরাসরি সুফল পাবেন।”
শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, যাতে কেউ ভোট কেড়ে নিতে না পারে। বিএনপি জনগণের ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করতে কাজ করবে।”
সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বর্তমান রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





































