সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬

মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব জলাভূমি দিবস: ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও টেকসই ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন

বিশ্ব জলাভূমি দিবস: ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও টেকসই ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন

প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব জলাভূমি দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক রামসার কনভেনশন, যার মূল লক্ষ্য ছিল জলাভূমির সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। জলাভূমির পরিবেশগত ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই দিবসের আয়োজন। ২০২৬ সালের বিশ্ব জলাভূমি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “জলাভূমি এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন” আমাদের নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

জলাভূমি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাওর, বাওড়, বিল, ঝিল, নদী কিংবা ম্যানগ্রোভ বনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে লোকজ জ্ঞান, প্রথা ও পেশাভিত্তিক সংস্কৃতি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান স্থানীয় মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে বাঁচতে শিখিয়েছে কখন মাছ ধরা যাবে, কখন জমি চাষ উপযোগী, কিংবা কীভাবে বন্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে জীবন পরিচালনা করা যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। হাওরাঞ্চলের ভাসমান কৃষি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণের কৌশল কিংবা মৌসুমি জলপ্রবাহকে কেন্দ্র করে বসতি বিন্যাস সবই স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ফল। কিন্তু আধুনিকতার চাপে এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এসব জ্ঞান ও জলাভূমি দুটিই আজ সংকটের মুখে। দখল, দূষণ ও অবৈধ ভরাটের কারণে একদিকে জলাভূমি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবিকাভিত্তিক জ্ঞান।

জলাভূমি ধ্বংসের প্রভাব বহুমাত্রিক। বন্যা ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যেখানে জলাভূমি হতে পারত প্রাকৃতিক ঢাল, সেখানে আমরা নিজেরাই সেই ঢাল ভেঙে দিচ্ছি।

বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় টেকসই উন্নয়নের জন্য আধুনিক বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের সমন্বয় অপরিহার্য। জলাভূমি সংরক্ষণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক জলাভূমি রক্ষা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার শপথ। উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনই হতে পারে টেকসই আগামীর পথ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়