সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়ার আগে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়ার আগে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের অভিজাত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কাছে কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ’ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে বিমান উড়ানো কিংবা সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে ইরানি স্পিডবোটের বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসার মতো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিরাপদ ও অপেশাদার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনীগুলোর একটি এবং তারা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে। একই মানদণ্ড অনুসরণ করতে ইরানের আইআরজিসিকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে গত ২৭ জানুয়ারি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আকাশসীমায় সরাসরি গুলি চালানোর সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান। দেশটির ঘোষণানুযায়ী, আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শুরু হতে যাওয়া এই নৌ মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণ করা হবে। তবে ইরান দাবি করেছে, এই মহড়ার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত হবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মধ্যেই ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্ক সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের কোনো আপত্তি নেই, তবে হুমকির মুখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা কখনোই করা হবে না।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে অভিযান, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপ এই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার চেয়েও শক্তিশালী একটি মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসতে তেহরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও সামরিক শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েই এই শক্তি প্রদর্শন করা হবে। তবে সেখানে প্রাণহানি ঘটছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: