মার্চের পর অনিশ্চিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা, তহবিল সংকটে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা
কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিল সংকটের কারণে মার্চের পর রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থার তথ্যমতে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না পেলে রোহিঙ্গাদের জন্য চালু থাকা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ব্যাহত হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্ণমাত্রার খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে শুধু এপ্রিল মাসের জন্যই প্রয়োজন প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।
এর আগে তহবিল সংকটের কারণে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্য সহায়তা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। সে সময় প্রতি রোহিঙ্গার জন্য মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রায় ১ হাজার ৩৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৬০ টাকায় নামিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এতে শিবিরগুলোতে মারাত্মক খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন মানবিক সহায়তা সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে কয়েকটি দাতা দেশ থেকে নতুন করে সহায়তা এলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ সীমিত পরিসরে খাদ্য সহায়তার জন্য অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। এর ফলে আপাতত রেশন হ্রাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রতি রোহিঙ্গার জন্য মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রায় ১ হাজার ৩২০ টাকার কাছাকাছি রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন করে বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক সহায়তা না এলে আগামী মাসগুলোতে আবারও খাদ্য সহায়তা কমানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোহিঙ্গারা। ইতোমধ্যে শিবিরগুলোতে শিশুদের অপুষ্টি ও খাদ্যসংকটজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গারা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে রোহিঙ্গা সংকটে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে আসছে।





































