সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬

চ্যানেল এইটটিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫১, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:৫২, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিল্লির ‘বিলাসবহুল প্রাসাদে’ শেখ হাসিনা, কঠোর নিরাপত্তার বর্ণনা ব্রিটেন আ.লীগের নেতাদের

দিল্লির ‘বিলাসবহুল প্রাসাদে’ শেখ হাসিনা, কঠোর নিরাপত্তার বর্ণনা ব্রিটেন আ.লীগের নেতাদের

ব্রিটেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের দাবি, দিল্লির একটি বিলাসবহুল প্রাসাদে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। নিরাপত্তা এতটাই কড়া যে সেখানে ‘মাছি গলারও সুযোগ নেই’।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্রিটেন আওয়ামী লীগের ওই নেতারা তার বর্তমান বাসস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন থেকে ব্রিটেন আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা এক সপ্তাহের সফরে দিল্লিতে যান। গত ২১ জানুয়ারি তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন এবং দিল্লিতে যে বাড়িতে তাকে রাখা হয়েছে, সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেন। সফর শেষে তারা ২৬ জানুয়ারি লন্ডনে ফিরে যান। এ তথ্য জানিয়েছে আনন্দবাজার ডটকম।

সূত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটেন আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং ব্রিটেন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেখ হাসিনার বাসস্থানের বিবরণ দিয়েছেন।

ব্রিটেন আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, নিরাপত্তার কারণে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যাওয়ার সময় তাদের কারও মোবাইল ফোন বা ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনা নিজে অনুমতি দেওয়ার পর একাধিক ধাপে নিরাপত্তা যাচাই শেষে নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়িতেই তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

এক নেতা বলেন, আমরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে ছিলাম। পুরো সময়টাই তিনি আমাদের দিয়েছেন। তাকে আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা চোখে পড়েনি। তবে আগের তুলনায় ওজন কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়েছে।

শেখ হাসিনার বর্তমান বাসস্থান সম্পর্কে তারা জানান, সেটি একটি সুসজ্জিত ও বিশাল প্রাসাদসদৃশ বাড়ি। চারপাশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় রয়েছে। বাসস্থানে তাকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারীও নিযুক্ত আছেন বলে দাবি করেন তারা।

নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত যার সঙ্গে শেখ হাসিনার দেখা হয়, তিনি তার ছোট বোন শেখ রেহানা। লন্ডন থেকে তিনি প্রায়ই দিল্লিতে যাতায়াত করেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তখন থেকেই তিনি দিল্লিতে একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। তার বাসস্থানের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিলেও এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট জবাব ঢাকায় আসেনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়